মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ এবং করণীয়। মাসিক কেন অনিয়মিত হয়।

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ এবং করণীয়

পোস্টে এ ভিজিট করার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা আমার এই পোস্টে আজকে পেতে যাচ্ছেন মাসিক অনিয়মিত হলে কিভাবে নিয়মিত করবেন সে বিষয়ে টিপস এন্ড ট্রিকস। আপনারা অবশ্যই নিচে পুরোপুরি পোস্টটা পড়বেন। এবং আপনারা আমাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন এ প্রশ্ন-উত্তরের ওপরে বিবেচনা করে আমরা আজকে এই পোষ্টটি লিখেছি। শুধুমাত্র আপনাদের সুবিধার জন্য। তাই আমাদের পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন। আপনাদের কাছ থেকে আমরা যে ধরনের প্রশ্ন পেয়ে থাকি নিম্নে দেওয়া হল:

  • মাসিক অনিয়মিত, 
  • মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ, 
  • মাসিক অনিয়ম হলে কি করনীয়, 
  • মাসিক অনিয়ম হবার কারণ
  • মাসিক অনিয়মিত হলে কি করা উচিত, 
  • মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ কি,
  • অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত করার উপায়, 
  • অনিয়মিত মাসিক ও গর্ভধারণ, 
  • অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত করার দোয়া, 
  • অনিয়মিত মাসিক বন্ধ করার উপায়,

অনিয়মিত মাসিক নারী শরীরের একটি প্রচলিত সমস্যা। একজন সাধারন নারীর জীবনে মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর থেকে ২১ দিন থেকে ৩৫দিনের মধ্যে যেটা হয় সেটাকে নিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড বলে। আর যদি কখনো ২১দিনের আগে পিরিয়ড হয় বা মাসিক হয় অথবা ৩৫ দিনের পরে মাসিক হয় সেটাকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়।আজকে আমি আমার এই পোস্টে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো যে কেন নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড হয় এবং কোন নারীর যদি অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক হয় তাহলে সেক্ষেত্রে করণীয় কি? মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

আরো জানুনঃ স্মৃতিশক্তি বাড়ায় কোন কোন খাবার।

সাধারণত অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড যৌবনের শুরুতে এবং যৌবনের শেষের দিকে হতে পারে। কারণ যৌবনের শুরুতে মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন নামক হরমোন যদি অপরিপক্ক থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড সমস্যা হয়। আবার অনেক সময় যখন মেয়েদের শরীরে মেনোপজ শুরু হয় তার আগে এই ধরনের সমস্যা মেয়েদেরকে ফেস করতে হয়। এছাড়াও মেয়েদের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে কিন্তু মাসিক অনিয়মিত হয়ে থাকে।

অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড এর কারণগুলো হলো

  • বিবাহিত নারীরা যদি হঠাৎ জন্মনিয়ন ঔষধ বন্ধ করে দেয় তাহলে
  •  জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে হতে পারে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের কারণে হতে পারে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  • প্রি মেনোপজ এড় সময় যদি হয়ে থাকে তাহলে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। 
  • যেসব নারী শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারীর অনিয়মিত মাসিক হতে পারে 
  • ওজনের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে 
  • শরীরে টিউমার বা ক্যান্সার বাসা বাঁধে তাহলে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। 
  • শরীরে রক্ত কমে গেলে অর্থাৎ এনিমিয়া হলে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  সহবাসের সময় পুরুষের শরীর থেকে আসা অসুখের কারণে হতে পারে
  •  শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে হতে পারে

অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড এর সমস্যা 

  • সন্তান ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  মাসিক বেশি সময় ধরে হয়। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ হতে পারে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  কখনো বেশি রক্তপাত আবার কখনো অল্প রক্তপাত হতে পারে
  •  মেজাজ খিটখিটে ও অশ্বস্তি বোধ তৈরি হতে পারে
  •  প্রতিমাসে নিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড হয় না। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  এক মাসে রক্তপাত হলে হয়তো আর এক মাসে হয় না
  •  অনেক সময় আবার দুই তিন মাস পর পর মাসিক বা পিরিয়ড হয়

মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হলে চিকিৎসা

যদি কোন মেয়ের মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তাহলে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোনাল থেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে । কোন ব্যক্তি যদি বেশি ওজন হয়ে যাওয়ার জন্য মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তাহলে তাদেরকে ব্যায়াম ও ডায়েট করতে বলা হয়। মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় মেয়ের পাশাপাশি মাকেও কাউন্সিলিং দেওয়া হয়। যদি বেশি রক্তপাত হয় তাহলে আয়রন সাপ্লেমেন্ট দেওয়া হয়ে থাকে। কারোর যদি মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং ওষুধ সেবন করা উচিত। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

চিকিৎসকের কাছে কখন যেতে হবে

  • যদি মাসিক এর সময় বেশি রক্তপাত হয় তাহলে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  যদি বছরে তিনবারের বেশি মাসিক বা পিরিয়ড না হয় তাহলে
  •  মাসিকের সময় খুব ব্যথা হলে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  যদি মাসিক বা পিরিয়ড 21 দিনের আগে অথবা 25 দিনের পরে হয় তাহলে
  •  যদি সাত দিনের বেশি সময় ধরে মাসিক বা পিরিয়ড থাকে তাহলে

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে

  •  মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে সবসময়। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  শরীরের ওজন কে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
  •  আয়রন জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  •  পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে আরো কিছু কথা

যাদের মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তাদের কিন্তু এভাবে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত মাসিক নাও হতে পারে কিন্তু এটা ভাবা যাবে না যে তারা প্রেগনেন্ট । যদি কারোর মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তাহলে তার অন্য কোন সমস্যা হয়তো থাকতে পারে। আর অনেক সময় মাসিক বা পিরিয়ড এর আগে মেয়েদের হরমোন জনিত কারণে স্তন অনেক ব্যথা হয়। তবে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই এটি কিন্তু কোনো রোগ নয়। যদি ব্যথা অনেক বেশি হয় তাহলে মাঝে মাঝে পেইনকিলার খেতে পারেন। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

আরো জানুনঃ কেন ছেলেরা মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়

তবে পিরিয়ড বা মাসিক হওয়ার সময় স্তনের ব্যথা কে স্বাভাবিক ব্যথা ধরে নিলে অনেক ভালো হয়। আর কন্টিনিউ যদি আপনার মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হতে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আপনার কিছু হরমোন টেস্ট করানো উচিত। কারণ যেসব মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত হয় সেই সব মেয়েদের ডিম্বাশয় এর ডিমগুলো ফুটে থাকে। আমাদের বাংলাদেশের শতকরা প্রায় 30 থেকে 40 জন মহিলার কিন্তু এই মাসিক বা পিরিয়ড সমস্যা রয়েছে। এবং এদের সবার মধ্যে মাসিক শুরু হয়না।

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

যদি কখনো 20 থেকে 40 বছর বয়সী মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় তাহলে ধরে নিতে হবে যে অবশ্যই তাদের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে। নারীর বয়স যখন চল্লিশ পার হয় তারপর থেকে সেই নারীর ডিম্বাশয় এর কার্যকারিতা আস্তে আস্তে কিন্তু কমে যেতে থাকে। প্রত্যেকটি নারীর জরায়ুতে দুইপাশের দুইটি ডিম্বাশয় রয়েছে। আর এই দুই পাশে দুটি ডিম্বাশয়ের কাজ হল হরমোন নিঃসরণ এবং ডিম্বস্ফুটন। একটানা ছয় মাস মাসিক বা পিরিয়ড বন্ধ থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেই নারীর মনোপজ হয়ে গেছে।

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে। এবং মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় মেয়েদের তলপেটে ব্যথা হয় আর একে ডিজমেনোরিয়া বলা হয়ে থাকে । মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় যদি তলপেটে তীব্র ব্যথা হয় তাহলে তলপেটে হালকা ম্যাসাজ করলে কিন্তু ব্যাথাটা কমে যাবে। মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় প্রত্যেক 4 ঘন্টা অন্তর অন্তর প্যাড চেঞ্জ করতে হবে। মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সাইকেল চালানো সাঁতার কাটা অথবা ব্যায়াম এইসব কাজগুলো করতে হবে।

ঘরোয়াভাবে মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করার উপায়

  • মানসিক এবং শারীরিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে।
  •  ওজন যদি বেশি থাকে তাহলে ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে।
  •  প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং নিজেকে ঠান্ডা রাখতে হবে
  •  মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করতে নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খেলে অনেকটা উপকারে আসবে
  •  নিয়মিত সুষম খাদ্য এবং শরীরচর্চা করতে হবে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ। 
  • ক্যাফেইন জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।
  • মাসিকের সময় প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে
  • চা-কফি এবং সফট ড্রিংকস এগুলো খাওয়া পরিহার করতে হবে
  • মাসিক বা পিরিয়ড সমস্যা দূর করার জন্য বারে বারে অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে
  • মাসিক শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে শসা, গাজর, পেয়ারা, কলা, আপেল ইত্যাদি ফলমূল খেতে হবে
  • অনেক সময় গনোরিয়া, ডায়াবেটিস, রোগের কারণে মাসিক অনিয়মিত হয়

এছাড়াও আঙ্গুর ফল মাসিক বা পিরিয়ড রেগুলার করার জন্য খুবই কার্যকরী। মাসিক বা পিরিয়ড রেগুলার করার জন্য প্রতিদিন আঙ্গুরের জুস খেলে বা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যদি আঙ্গুর ফল রাখা যায় তাহলে অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে। মাসিক নিয়মিত করতে আমাদের প্রচুর পরিমাণে গাজর খাওয়া উচিত কারণ গাজরে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন যেটা মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করতে সাহায্য করে। মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করতে অ্যালোভেরা শাস রূপচর্চার পাশাপাশি অনেকটা কাজে দেয় । মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হয় যখন মানুষ বেশি টেনশন করে তখন। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

আরো জানুনঃ শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার খাদ্য।

মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করার জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি ফলমূল যেমন তিল, তিসি বীজ ইত্যাদি খাওয়া উচিত । প্রতিদিন প্রায় 10 থেকে 12 গ্লাস পানি খাওয়া উচিত মাসিক বা পিরিয়ড নিয়মিত করতে। যখন মেয়েদের পিরিয়ড হয় তখন হরমোনের অনুপাত ঠিক থাকেনা । যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় পিছিয়ে যেতে পারে । যখনই দেখবেন যে আপনার মাসিক বা পিরিয়ড এর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে তখনই আপনি হরমোনের অনুপাত ঠিক রাখার জন্য দুধ খেতে পারেন। তবে মাসিক নিয়মিত করতে হলে আপনাকে পরিহার করতে হবে ডিমের কুসুম এবং তেল জাতীয় খাবার ।মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।

আমাদের শেষ কথা 

আশা করছি সবাই আজকে আমার এই পোস্ট থেকে খুব ভালোভাবে জানতে পারবেন মাসিক বা পিরিয়ড এর অনিয়মিত হওয়ার কারণ এবং এটা অনিয়মিত হলে আপনাকে কি করতে হবে মাসিক বা পিরিয়ড অনিয়মিত হলে ঘরোয়া ভাবে এটা ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন যদি ঠিক না হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ।


0/Post a Comment/Comments