কাঁড়ি কাঁড়ি বেতন পান যে ১১ সরকারপ্রধান


 কাঁড়ি কাঁড়ি বেতন পান যে ১১ সরকারপ্রধান

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বেতন পান কারা? এমন প্রশ্নে আমাদের মাথায় আসে বিশ্বের নামীদামি সব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও টেক জায়ান্টগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কথা। আসে তারকা অভিনেতা ও গায়ক-গায়িকাদের নামও। তবে এমন অনেক সরকারপ্রধান রয়েছেন, যাঁদের বেতনের পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে।

বিশাল অঙ্কের বেতন ঘরে তোলা এমন ১১ সরকারপ্রধানের তালিকা তৈরি করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। তালিকায় যেমন আছেন পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা, তেমনই বাদ পড়েনি এশিয়ার দেশগুলোও। সবচেয়ে বেশি বেতন পান এমন দেশের সরকারপ্রধানের তালিকায় রয়েছেন এশিয়ার একটি দেশের সরকারপ্রধান।

লি সিয়েন লং

বিশ্বের যেসব দেশের সরকারপ্রধান বেশি বেতন পান তাঁদের মধ্যে একজন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লং। তাঁর বেতন ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা (১৬ লাখ ডলার)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁর চেয়ে কম বেতন পান। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেতনের চেয়ে এই অর্থ ১২ গুণ বেশি।

এ ছাড়া বিলাসবহুল অফিস রয়েছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর। ১০৬ একর জমির ওপর নির্মিত অফিস ভবনটি পরিচিত ‘দি ইস্তানা’ নামে।

এত বেতন পাওয়ার পরও অবশ্য কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে লি সিয়েন লংয়ের। এ নিয়ে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমার চেয়ে কম বেতন পান, এটা ঠিক। তবে হোয়াইট হাউসের বাসিন্দারা এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ভ্রমণ করেন, আর ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মতো সুবিধাগুলো পান। এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দীর্ঘ সময় ধরে লাখ লাখ ডলার পেয়ে থাকেন।

জো বাইডেন

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের বেতন মোটা অঙ্কের হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বেশি নয়। খরচ চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেতন পান ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (৪ লাখ ডলার)। আর তাঁর পাওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো হয়তো গুণে শেষ করা যাবে না। ১৩২ কক্ষের হোয়াইট হাউস থেকে শুরু করে সুসজ্জিত উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে কী নেই।

এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটি তিন তলাবিশিষ্ট। সব মিলিয়ে জায়গা রয়েছে চার হাজার বর্গফুট। উড়োজাহাজটিতে একটি ছোট হাসপাতালও রয়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে করা যাবে অস্ত্রোপচার। আরও রয়েছে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কক্ষ এবং সুবিশাল এক রান্নাঘর। একসঙ্গে ১০০ জন মানুষের রান্না করা যায় সেখানে।

ক্যারি ল্যাম

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের বাড়িতে নাকি কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। বিবিসির খবরে জানা যায়, হংকংয়ের টিভি চ্যানেল এইচকেআইবিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় কথাটি স্বীকার করেন তিনি নিজেই। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন না তিনি। নগদ অর্থে বেতন নেন ল্যাম, খরচও করেন নগদ।সরকারি কোষাগার থেকে তাঁর পকেটে আসে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (৬ লাখ ৭২ হাজার ডলার)। বিপুল অর্থের বেতন ছাড়াও বিশেষ কিছু সুবিধা পান ল্যাম। তাঁর গাড়িতে থাকে না নম্বর প্লেট। বরং গাড়ির সামনে-পেছনে লাগানো থাকে হংকংয়ের জাতীয় প্রতীক।