উয়েফা শুধু টাকার কথাই ভাবে


রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাসের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নামের এক বিদ্রোহী লিগ জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করায় এই তিন ক্লাব ফুটবল ধ্বংস করে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন সেফেরিন। বলেছেন, ফুটবল ও ফুটবলারদের কথা না ভেবে শুধু টাকা উপার্জনই মূল লক্ষ্য এই ক্লাবগুলোর। অর্থাৎ এরা সবাই অর্থলোভী।

এবার উয়েফার বিরুদ্ধেও সেই অভিযোগ উঠল। বিশ্বকাপ ও ইউরোর ব্যস্ততা সত্ত্বেও নেশনস লিগ নামের আরেকটি প্রতিযোগিতার জন্ম দেওয়ায় আগেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বহু খেলোয়াড়। নিজেদের উয়েফার কাছে জিম্মি বলে দাবিও করেছেন জার্মানির টনি ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ক্লাব সঙ্গী থিবো কর্তোয়াও এই লিগ সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করেন। গতকাল নেশনস লিগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলা নিয়ে ক্ষুব্ধ বেলজিয়ান গোলরক্ষক বলেছেন, উয়েফা শুধু টাকার চিন্তাই করে।

বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হলেও ইউরোতে এমন কিছু নেই। ফাইনালে উঠতে না পারার দুঃখের মধ্যে আর তৃতীয় হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নেই সেখানে। কিন্তু নেশনস লিগে সেটা রাখা হয়েছে। ম্যাচের আগেই এ নিয়ে নিজের আপত্তি জানিয়েছিলেন কর্তোয়া। কাল ইতালির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর তো আরও বেশি বিরক্ত মনে হলো কর্তোয়াকে, ‘আমাদের সত্য মেনে নেওয়াই ভালো, এটা এখন টাকার খেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা এ ম্যাচটা খেলছি, কারণ এতে উয়েফা বাড়তি টাকা পাবে। টিভি থেকে আরও বেশি অর্থ যোগ হবে।

ইতালি-বেলজিয়াম ম্যাচ যেকোনো দর্শককে টানতে বাধ্য। ইউরোপের দুই পরাশক্তির লড়াই দেখার ইচ্ছা কার না হয়। কর্তোয়া মানেন, এমন বড় ম্যাচ খেলতে তাঁদেরও ভালো লাগে।
 
কিন্তু এমন ঠাসা সূচির মধ্যে অর্থহীন এক ম্যাচ আয়োজন করে খেলোয়াড়দের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক না বলেই মনে করেন কর্তোয়া, ‘আমাদের জন্য এটা খুব ভালো ম্যাচ এটা, কারণ ইতালির সঙ্গে ম্যাচ। ইতালির জন্যও ভালো, কারণ বেলজিয়ামের সঙ্গে ম্যাচ। অবশ্যই সবাই বলবে তারা এ ম্যাচ খেলতে চায় এবং কিন্তু দুই দলের দিকে দেখুন আর পরিবর্তনগুলো (একাদশে) দেখুন। যদি দুই দল ফাইনালে থাকত, তাহলে অন্য অনেকেই থাকত। তার মানে আমরা অনেক বেশি ম্যাচ খেলছি।

উয়েফা অধিক অর্থের আশায় নেশনস লিগ আয়োজন করেছে। ওদিকে ফিফাও দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাইছে। কারণ, এসব টুর্নামেন্ট ঘিরে আগ্রহ বেশি থাকে এবং স্পনসরের টাকা বেশি পাওয়া যায়। এত এত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বিরক্তি লুকাননি কর্তোয়া, ‘জুনে চারটা নেশনস লিগের ম্যাচ আছে। কেন? আগামী বছর আমরা নভেম্বরে বিশ্বকাপ খেলব এবং আমাদের জুনের একদম শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। আমরা চোটে পড়ব। কেউ আর খেলোয়াড় নিয়ে ভাবে না এখন। একটা দীর্ঘ মৌসুম শেষে আপনাকে আবার নেশনস লিগে খেলতে হচ্ছে আর আপনি মাত্র দুই সপ্তাহের ছুটি পাবেন। ১২ মাস শীর্ষ পর্যায়ে খেলা ফুটবলারদের জন্য এটা যথেষ্ট না।

এ ব্যাপারে ফুটবলারদের এখনই মুখ খোলা উচিত বলে মনে করেন কর্তোয়া। সুপার লিগের সময় বেশ বড় বড় কথা বলা উয়েফাকে বেশ কড়া কথাই শুনিয়ে দিয়েছেন কর্তোয়া, ‘আমরা যদি কিছু না বলি তাহলে সব সময় এমন হতে থাকবে। এরপর সুপার লিগ তো আছেই। সেখানেও বাড়তি খেলার প্রস্তাব। এবং কনফারেন্স লিগ না কী এক নামে আরেকটি ট্রফি শুরু করেছে। সব সময় একই। ক্লাবগুলো সুপার লিগ খেলতে চাইলে তারা রাগ দেখায়, কিন্তু তারা খেলোয়াড়দের ভালো চায় না। তারা শুধু নিজেদের পকেটের চিন্তা করে এবং এটা খুব বাজে ব্যাপার। এখন শুনছি তারা প্রতিবছর একটা বিশ্বকাপ বা ইউরো রাখতে চায়। আমরা তাহলে কখন বিশ্রাম পাব? কখনো না। খেলোয়াড়েরা চোটের পর চোটে পড়বে। আর সেখানেই শেষ হবে। এটা ভালো হতে হবে এবং ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। আমরা রোবট না। দিন দিন খেলা বাড়ছে, বিশ্রাম কমছে এবং কেউ আমাদের নিয়ে ভাবে না।

সূত্র = prothomalo